আমরা মনে করি, যাকাত চর্চা সম্প্রসারনের ক্ষেত্রে এর অসংখ্য তাত্ত্বিক এবং প্রায়োগিক দিক নিয়ে ব্যাপক গবেষণার কোন বিকল্প নেই। এই গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র হচ্ছে যাকাত বিষয়ক প্রবন্ধ/নিবন্ধ রচনা। আমরা চাই বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় বিশেষ করে বাংলা ভাষায় যাকাতের উপর বহু সংখ্যক লেখক সৃষ্টি হোক এবং তাদের থেকে প্রচুর মান সম্পন্ন লেখা বেরিয়ে আসুক। এ বিষয়টিকে কার্যকর ভাবে উৎসাহিত করার জন্য আমরা এখানে যাকাত বিষয়ক বিভিন্ন রচনা উপস্থাপন করবো। এগুলো আমরা নিজেরা সংগ্রহ করবো। তাছাড়া কোন আগ্রহী লেখক তাঁর লেখা প্রবন্ধ/নিবন্ধ সরাসরি আমাদের কাছে পাঠাতে পারবেন। উভয় ক্ষেত্রেই উপস্থাপনের পূর্বে রচনার মানের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তবে লেখার বক্তব্যের ব্যপারে লেখক নিজে দায়ী থাকবেন। সংগৃহীত কোন লেখা বিনা অনুমতিতে উপস্থাপনের ব্যপারে লেখকের আপত্তি থাকলে তা আমাদেরকে অবগত করার অনুরোধ রইল। আমরা সজ্ঞানে কোন অনুমতি সাপেক্ষ রচনা বিনা অনুমতিতে আমাদের এই সাইটে উপস্থাপন করবো না।
ধনীদের জন্য জাকাত ফরজ
ইসলামে প্রতিটি অবস্থাপন্ন মুমিনের জন্য জাকাত আদায় একটি অবশ্য কর্তব্য বা ফরজ বলে বিবেচিত। জাকাত ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। জাকাত আদায় যাদের জন্য ফরজ তারা তা আদায় না করলে পরকালে তাদের কঠিন সাজার সম্মুখীন হতে হবে। পবিত্র কোরআনে সালাত বা নামাজ আদায়ের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে জাকাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে। অবস্থাপন্ন মুমিনদের জন্য জাকাত আদায় যে বাধ্যতামূলক তা বুঝাতে যাকাতের কথা বার বার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলামী বিধান অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বা সঞ্চয় থাকলে জাকাত আদায় বাধ্যতামূলক
গ্রামে বাড়ছে টাকার প্রবাহ চাঙ্গা হচ্ছে অর্থনীতি
রোজা ও ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামে টাকার প্রবাহ বাড়ছে। এই টাকার বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে ভোগবিলাসে। আর কিছু অংশ বিনিয়োগ হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পভিত্তিক উৎপাদন খাতে। রোজার আগ থেকেই দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করেছে। আর এর বড় অংশই যাচ্ছে গ্রামে। এদিকে অর্থবছর শেষ পর্যায়ে হওয়ায় সরকারি খাতের বরাদ্দ অর্থ খরচ করার ধুম পড়েছে। এর একটি বড় অংশও যাচ্ছে গ্রামে। সরকারি-বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতনের একটি অংশ ইতিমধ্যে গ্রামে চলে গেছে। বেতন-বোনাসের আরও একটি বড় অংশ ঈদের আগেই যাবে গ্রামে। ঈদ ও রোজার বাড়তি খরচ মেটাতে কৃষকের ঘরে মজুদ ধান বা অন্যান্য ফসলের একটি অংশ এখন বিক্রি করা হচ্ছে। রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চলের আম-লিচু বিক্রির টাকাও যাচ্ছে ওই অঞ্চলের গ্রামগুলোতে। অর্থবছরের শেষ সময় হওয়ায় কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ব্যাংকগুলোকে আরও বেশি টাকা বিতরণ করতে হচ্ছে। এছাড়া রাজনীতিবিদদের নানা কর্মসূচির কারণেও গ্রামে টাকার প্রবাহ রাড়ছে। সব মিলে নানাদিক থেকে অর্থ আসায় গ্রামের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠছে।
সম্পদ পরিশুদ্ধ ও দারিদ্র্য বিমোচন করে যাকাত
যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। এটি ইসলামী অর্থনীতির অন্যতম উপাদান। কোরআনে কারীমের ৩০টি আয়াতে যাকাতের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি আয়াতে নামাজের সঙ্গে সঙ্গে এবং দুটি আয়াতে স্বতন্ত্রভাবে।
যাকাত শব্দটির অর্থ পবিত্রকরণ, পরিশুদ্ধকরণ, ক্রমবৃদ্ধি, আধিক্য ইত্যাদি। আর ইসলামী পরিভাষায়- ধনীদের সম্পদে আল্লাহর নির্ধারিত দেয় অংশ যাকাত। বস্তুত যাকাত হচ্ছে সম্পদশালীদের সম্পদে আল্লাহ নির্ধারিত সেই ফরয অংশ যা সম্পদ ও আত্মার পবিত্রতা অর্জন, সম্পদের ক্রমবৃদ্ধি সাধন এবং সর্বোপরি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নির্ধারিত খাতে ব্যয় বণ্টন করার জন্য দেয়া হয়।
সদকাতুল ফিতর
সাদকাতুল ফিতর মুসলিম নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, আজাদ-গোলাম সকলের উপর ওয়াজিব। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে আজাদ, গোলাম, নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সকল মুসলিমের উপর এক সা’ খেজুর, বা এক সা’ যব সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন। পেটের বাচ্চার পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর দেয়া ওয়াজিব নয়, কিন্তু কেউ যদি আদায় করে, তাহলে নফল সদকা হিসেবে আদায় হবে। ওসমান রাদিআল্লাহু আনহু পেটের বাচ্চার পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করতেন। ফিতরা নিজের পক্ষ থেকে এবং নিজের পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে আদায় করবে। যেমন স্ত্রী ও সন্তান। যদি তাদের নিজস্ব সম্পদ থাকে তবে তাদের সম্পদ থেকেই সদকাতুল ফিতর আদায় করবে।
এক নজরে সদকাতুল ফিতর
ইবনে আব্বাস রা. একবার রমজানের শেষ দিকে বসরায় খুতবা প্রদান করেন। সেখানে তিনি বলেন, তোমাদের রোজার সদকা আদায় করো। লোকেরা যেন ব্যাপারটা বুঝতে পারে নি। তখন ইবনে আব্বাস রা. বললেন, এখানে মদীনার কে আছে দাঁড়াও। তোমাদের ভাইদেরকে বলো, তারা তো জানে না। বলো যে, রাসূল সা. এই সদকা আবশ্যক করেছেন। এক সা খেজুর বা যব অথবা আধা সা গম প্রত্যেক স্বাধীন-দাস, পুরুষ-নারী, ছোট-বড় সবার ওপর ওয়াজীব। (আবু দাউদ : ১৬২২)
যাকাত না দেওয়ার পরিণাম
যাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। ঈমান ও ছালাতের পরেই যাকাতের স্থান। মহান আল্লাহ পৃথিবীর মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির জন্য যাকাত ফরয করেছেন। পবিত্র কুরআনে ৩২ জায়গায় যাকাত আদায় করার ব্যাপারে আলোচনা এসেছে। যাকাত না দিলে সম্পদ শুধু ধনীদের কাছে জমা হয়। ফলে সমাজে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয় এবং ধনীরা ও সূদখোররা জোঁকের মত সমাজের রক্ত শোষণ করে নিজে বড় হয়, আর সমাজকে রক্তহীন করে দেয়। তাই পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে যাকাত না দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যাকাত না দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কেই নিম্নোক্ত হাদীছ-