যাকাত সম্প্রসারণ কার্যক্রম

করোনায় যাকাত দেয়া কমে গেছে।

মুসলিম শরিয়াহ আইন অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ (নিসাব পরিমাণ) সম্পদ থাকলে তা শুদ্ধ করতে যাকাত দিতে হয়। বছরের যেকোনো সময় এই যাকাত দেয়া যায়। তবে অতিরিক্ত সওয়াবের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বড় অংশই বেছে নেন পবিত্র রমজান মাসকে। কিন্তু এবার করোনার কারণে দুঃস্থ গরীবরা বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিবছর রমজান মাসে এবং ঈদে যাকাতের যে পরিমাণ সাহায্য সহায়তা গরীব মানুষ এবং কওমি মাদরাসাপড়ুয়া গরীব ছাত্রছাত্রীরা পায় এবার তার সিকি ভাগও পায়নি। যাকাত দেয়া কমে গেছে এটা যাকাতের শাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ার চিত্র দেখে বোঝা যায়।

গরীব-দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য যাকাত হিসেবে আমাদের দেশে শাড়ি-কাপড় ও লুঙ্গি দেয়ার রেওয়াজ রয়েছে আগে থেকেই। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে পুরোনো নিয়ম পাল্টে যাচ্ছে। এখন যাকাত হিসাবে কিছু নগদ টাকা ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে দেখা গেছে। ফলে যাকাতের শাড়ি-কাপড় ও লুঙ্গির কদর আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে।
রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে ফকিরাপুল রোডে নটরডেম কলেজের বিপরীত পাশে একটি ব্যানার ঝুলানো রয়েছে যাতে লেখা যাকাতের কাপড় বিক্রি হয়। কনক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই কাপড় বিক্রি করছে।

যাকাতের কাপড় বেচাবিক্রি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে থাকা আবুল খায়ের খান বলেন, প্রায় ৪০ বছরের ওপরে হবে এখানে আমরা যাকাতের কাপড় বিক্রি করছি। প্রতিবছর রমজানের আগে থেকেই আমরা শাড়ি-কাপড় ও লুঙ্গি বিক্রি শুরু করি। তবে প্রথম ১৫ রমজান বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু এবার ওই সময় লকডাউন-নিষেধাজ্ঞা ছিল। তাই দোকান খুলতে পারিনি। ১৬ রোজা থেকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খুলেছি। কাস্টমার আসছে, তবে আগের মতো বিক্রি হচ্ছে না।
পাশের দোকানদারকে জিজ্ঞেস করি কেন বিক্রি হচ্ছে না? এই বিক্রেতা বলেন, বিত্তবানরা মূলত গরীব-দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য যাকাতের কাপড় কেনেন। গত বছর থেকে মহামারি চলছে। এমনিতেই যাকাত দেয়ার পরিমাণ কমে গেছে করোনার কারণে। এখন অনেকে কাপড় না দিয়ে নগদ টাকা ও খাদ্যসামগ্রী বেশি দিচ্ছেন। বিক্রি কমার এটা একটা অন্যতম কারণ। এছাড়া মানুষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন খুব একটা ভালো না। আর আয় বেশি না থাকলে যাকাত দেবে কীভাবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, আমাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসা হওয়ায় নির্দিষ্ট কিছু কাস্টমার আছে। আগে যে কাস্টমার ২-৩শ’ কাপড় নিতেন, এখন ৫০-১০০টা নিচ্ছেন। আবার অনেকের আত্মীয়-স্বজনদের কাপড় দিতেই হবে, তাই বাধ্য হয়ে অল্প কাপড়-লুঙ্গি নিচ্ছেন। কাপড় কম নেয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। কারো কারো আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। আবার অনেকে ঝামেলা এড়াতে নগদ টাকা বিতরণ করছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন যাকাত ফান্ডে টাকা দিয়ে দিচ্ছেন বলেও তিনি মনে করেন।

নিউ মার্কেটের এক দোকানের কর্মী জানান, আগে দোকানে রমজান মাসে ২২ থেকে ২৫ জন কর্মী কাজ করতেন। এবার কাজ করছে ৮ জন। বেচাবিক্রি নেই। আমাদের পাশে প্রতিবছর আরও চার পাঁচটি দোকানে যাকাতের কাপড় বিক্রি হতো। এবার শুধু আমরাই বিক্রি করছি। কারণ কয়েকজন দোকান ছেড়ে দিয়েছে। আর বিক্রি কম হওয়ায় কাপড় তোলেনি। আমাদের নিজস্ব দোকান, তাই আমরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।
যাকাতের শাড়ি-কাপড় ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় পাওয়া যায়। তবে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার কাপড় বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান। এছাড়া লুঙ্গি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

যাকাতের কাপড়ের দাম কম হলেও মান খারাপ নয় দাবি করে দোকানি জানান, আমরা কাপড়-লুঙ্গি অর্ডার দিয়ে বানাই। পাইকারি রেটে বিক্রি করি। আমরা যেখান থেকে লুঙ্গি আনি ওইখান থেকে অনেক ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠানও লুঙ্গি এনে তাদের সিল মারে। আমাদের ২৫০-৩০০ টাকার লুঙ্গি তারা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করে।
যাকাতের কাপড় কিনতে আসা ধানমণ্ডির আবদুর রহিম নামের এক ক্রেতা জানান, আগে যাকাত হিসেবে কাপড়-লুঙ্গি দিতেন। এখন নগদ টাকা দেন। যাদের দেই তারা পছন্দ মতো কিনে নেয়। তিনি বলেন, ২৫ রমজানের মধ্যে এ বছরের যাকাতের টাকা দিয়ে দিয়েছি। এখন আমার বাড়ির পাশে কয়েকজন অসহায় লোক আছে; লকডাউনে তাদের তেমন কাজ নেই। এজন্য টাকার পাশাপাশি তাদের কাপড় ও লুঙ্গি দেবো।

উৎস: ইনকিলাব ডেস্ক, দৈনিক ইনকিলাব
স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ মে, ২০২১

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

Share on facebook
ফেইসবুক
Share on twitter
টুইটার
Share on email
ইমেইল

স্বর্ণ এবং রৌপ্যের
বর্তমান বাজার মূল্য

আইটেমের নাম টাকা/ভরি টাকা/গ্রাম
স্বর্ণ ২২ ক্যারেট ৭১,৯৭০ ৬১৭০
স্বর্ণ ২১ ক্যারেট ৬৮,৮২১ ৫৯০০
স্বর্ণ ১৮ ক্যারেট ৬০,০৭২ ৫১৫০
রৌপ্য ২১ ক্যারেট ১,৪৩৫ ১২৩
উৎস / সূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি v,

অনুসন্ধান